তোমার বিনিময়ে

___ ফয়সাল আহমেদ




ও মেয়ে ; আমি আমাকে চাই দিতে, শুধু তোমাকে তোমার বিনিময়ে।
বল মেয়ে ; নেবে কি না নেবে তুমি বল, মনে বড়ই আনন্দ নিয়ে

মোর জীবন নামের নদে, হয়ত নৌকা নাই, তাই ভেলা বানিয়ে ভাসাব
আর বহিবার তরে যদি, বৈঠা না পাই, তবে পাল তুলিয়ে দেব।
এই পাল তোলা ভেলায় চড়বে কি?  ভাসবে কি তুমি মেয়ে?
তবে আসো মনে স্ফূর্তি নিয়ে, আমি আছি তব পথ চেয়ে

জানি গোপাল-ভাঁড়ের বই, আমার কাছে নাই, তাই গল্প বানিয়ে শোনাব।
আর আমার প্রতি যদি, মনোযোগ পাই, তবে আমায় নিয়ে হাসাব।
এই বানানো গল্প শুনবে কি?  হাসবে কি তুমি মেয়ে?
তবে আসো মনে স্ফূর্তি নিয়ে, আমি আছি তব পথ চেয়ে



অটোরিক্সা


 .......ফয়সাল আহমেদ



     বগুড়া শহরের কলোনীতে, কিছু পন্য ক্রয়ের জন্য এক মুদিখানার দোকানের সো-উইন্ডোতে (বহিঃজানালা) দাড়িয়ে ছিল ফয়সালএ সময় হঠাৎ তার মুঠোফোনের রিংটোন বেজে ওঠলফয়সাল মুঠোফোনটিকে তার পকেট থেকে বের করার লগ্নে, হাতের ডানদিক দিয়ে হেঁটে চলা এক চোঁখ ধাঁধানো কুমারীকে দেখে স্থবির হয়ে গেলভুলে গেল তার কলটি রিসিভ করা ও পণ্য ক্রয় এর কথাটাওসেই মেয়েটার নাম জ্যোতি; আর তার সঙ্গে মৌমিতা ও তানিয়া নামে দুইজন বান্ধবী ছিলতারা সকলেই এক সঙ্গে, একটি অটোরিক্সাতে (ব্যাটারী-চার্জে চালিত একটি ছোট আকৃতির গাড়ী) উঠলতৎসঙ্গে ফয়সালও উঠলগাড়িটা যাচ্ছিল উত্তরে সাতমাথার দিকেএ সময় তাদের মধ্যে কিছু কথোপকথনঃ
তানিয়াঃ আগে কোন্‌ মার্কেটে যাবি?
মৌমিতাঃ গেলেই হলো একটাতে
জ্যোঃ আগে নিউ মার্কেটে যাব

নেশা মুক্ত পথ

___ ফয়সাল আহমেদ

পেশা তো নয় আপনার নেশা,
বরং নেশাটায় হয়ে গেছে পেশা।
ছুটছেন সর্বদায় নেশার পিছু;
সিগারেট, মদ, ফেনসিডিল কিংবা গাঁজা;
নির্বিগ্নে খাচ্ছেন, নাহি পাচ্ছেন উপযুক্ত সাঁজা।
আপনার খাবার জন্য মুখ আছে,
কেনার জন্য টাকাও আছে।
তো ভালকথা; কিনুন, খান।
তাই বলে মাদক দ্রব্য খেতে হবে কেন?
যেটা মানুষদের অগোচোরে খেতে হয়;
যার জন্য আপনাকে প্রশাসন খুঁজে বেরায়।
সেই মাদকের প্রতি এত আকুতি কেন?
কেনইবা এর প্রতি এত টান!
আপনি কখনও ভেবে দেখেছেন,
এর কুফল কতগুলো দিকে বিদ্যমান?
বিভিন্ন ব্যাধিতে সহজেই আক্রান্ত হতে পারেন।
হৃদরোগ ও ক্যান্সার তার জলন্ত প্রমান।
স্মৃতিশক্তি লোপ ও সাময়িক উদ্বিগ্নতায় পতিত হবেন।
ফলে সবার কাছে হতে থাকবেন লাঞ্চিত আর অপমান।
শুধু এখানেই শেষ নয়;
আপনি নেশা করবেন যত বেশী,
আপনার কাছ থেকে আপনজনেরা চলে যাবে ততো বেশী।
চলে যেতে যেতে একসময়,
হিরোসিমা আর নাগাসির মত হয়ে যাবেন শুধু একা।
যেখানে পরমানু বিষ্ফোরনের ফলে,
আজও মানুষকে বাস করতে যায়নি দেখা।

আবারও ভাবুন;
চারপাশটা দেখুন।
আনন্দ আহরনের জন্য পৃথিবীতে কত কিছুই না আছে।
যেগুলো আত্মমর্যাদার কথা বলে;
সত্যের পথে চলে।
একটা আনন্দ-অনুভুতি রয়েছে, প্রকৃতি বিচরনের মাঝেও;
যেটা উপলদ্ধি করেননি হয়ত আপনি এখনও।
তাই আসুন, নেতিবাচকের দিক ছেড়ে দেই।
ইতিবাচকের দিক হাতিয়ে নেই।
নেশামুক্ত পথে চলি;
জীবনটাকে সুন্দর ভাবে সাঁজিয়ে তুলি। 


ভালবাসার তুল্যতা

 ___ ফয়সাল আহমেদ

আমার ভালবাসা পদার্থ বিজ্ঞানের কোন পদার্থ নয় যে,
বিভিন্ন তাপমাত্রায় বিভিন্ন রুপে রুপান্বিত হবে।
আমার ভালবাসা রসায়নের কোন মৌল নয় যে,
অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে, অন্যকিছু উত্‍পন্য করবে।
আমার ভালবাসা জীব বিজ্ঞানের কোন জীবন নয় যে,
আমাদের অজান্তেই ফ্রুত করে উড়ে যাবে।
আমার ভালবাসা সমাজ বিজ্ঞানের কোন সমাজ নয় যে,
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষ এসে সেখানে বাস করবে।
আমার ভালবাসা গনিতের অংকের মত চিরসত্য;
এর সমাধান তুমি যেভাবেই করনা কেন, এর উত্তর, সর্বদা একই বেরুবে।



মেহেদি

___ ফয়সাল আহমেদ

কত সুক্ষভাবে ! কত সুন্দরভাবে !
সে কাহার কথা ভেবে ভেবে,
মেহেদি দিয়ে রাংগিয়েছ ঐ হাত?
আজি নির্ঘুম চোঁখে জেগে জেগে রাত।
সে কাহাকে দেখাবার তরে?
সে কি বাস করে, তোমার মনের কুটিরে?
নাকি এখনও জায়গাটায় করে দাওনি?
তাকে কি কখনও ডেকেছো, একটু একটু করে?
নাকি এখনও তাকে নিয়ে কল্পনায় করনি?
শুধু জানি, মাঝে মাঝে তোমারও মন,
কি জানি চায়;
কি জানি বলে যায় চুপে চুপে;
লুকোচুরি খেলে যায়;
বাসনার নীলিমায়, দ্বীধায়-দ্বীধায়।